জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় হবে লিডিং ইউনিভার্সিটির উন্নয়ন
—দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলী
জুলাই এর বৈপ্লবিক চেতনা থেকেই লিডিং ইউনিভার্সিটিকে এগিয়ে নিতে হবে
— উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন
সিলেটের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় লিডিং ইউনিভার্সিটিতে জুলাই অভ্যুত্থান থেকে ক্যাম্পাস জাগরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৩১ আগস্ট ২০২৫) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় একাডেমিক ভবন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে ক্যাম্পাস জাগরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লিডিং ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলী।
লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী জুলাই যোদ্ধাদের অনুভূতি প্রকাশ, জুলাই যুদ্ধে শহীদ পরিবারের সদস্যের স্মৃতিচারণ এবং লিডিং ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে তাদেরকে সন্মাননা প্রদান করা হয়। শহীদ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সন্মাননা গ্রহণ করেন শহীদ নাজমুলের পরিবার, শহীদ তারেকের পরিবার, শহীদ সানির পরিবার, শহীদ রায়হানের পরিবার, শহীদ সুহেলের পরিবার এবং শহীদ মইনুলের পরিবার। জুলাই যুদ্ধে আহত মো. জহির খানকেও সন্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পর্বে ছিল লিডিং ইউনিভার্সিটির কালচারাল ক্লাব সদস্যদের গান ও কবিতা পরিবেশনা এবং থিয়েটার মঞ্চের নাটিকা।
জূলাই-আগস্ট আন্দোলনের চেতনা থেকে লিডিং ইউনিভার্সিটিতে জাগরণের নতুন জোয়ার এসেছে উল্লেখ করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশপ্রেম ও সাহসিকতার প্রতিক। জুলাই আন্দোলনে ছাত্র জনতার আত্মত্যাগ আমাদের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের পথ খুলে দিয়েছে। তিনি আরো বলেন গত বছরের জুলাই-আগস্ট মাসে লিডিং ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা অপরিসীম সাহসিকতার প্রমাণ দিয়ে তাদের অধিকার পুনরুদ্ধার করেছে। সবসময়ই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সাথে একত্বতা প্রকাশ করেছি উল্লেখ করে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নেও তাদের দাবির প্রতি একমত হয়ে তৃতীয় একাডেমিক ভবনে একটি সুপরিসর অডিটোরিয়াম নির্মানের ঘোষণা দেন।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন বলেন, আমরা বর্তমানে স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছি, কাজ করতে পারছি তা জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে হাজারো শহীদদের রক্তস্নাত এক নতুন ভবিষ্যৎ ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ার স্বপ্ন থেকেই সম্ভব হয়েছে। জুলাই বিপ্লব একদিনে আসে নাই, তাই আমাদেরকে সে অর্জন ধরে রাখতে হবে। সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করে লিডিং ইউনিভার্সিটিকে এগিয়ে নিতে হবে উল্লেখ করে তিনি জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী লিডিং ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা যে ভূমিকা রেখেছে তার জন্য তাদেরকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং উপমহাদেশের প্রখ্যাত দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলীর নেতৃত্ব ও সহযোগিতায় আমরা যে সুন্দর একটি ক্যাম্পাস পেয়েছি সেটিকে নিরাপদ এবং র্যাগিংমুক্ত ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকগণের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীরা যেসব দাবি উত্থাপন করেছে সেগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সে লক্ষ্যে কাজ করছে। পরিশেষে তিনি জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে শহীদদের স্মরণ করে তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং আজকের এই সফল অনুষ্ঠান আয়োজন করার জন্য আয়োজক কমিটির সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তা এবং জুলাই যোদ্ধা লিডিং ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদেরকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন লিডিং ইউনিভার্সিটির প্রক্টর ও অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির আহবায়ক মো. মাহবুবুর রহমান। লিডিং ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান কাজী মো. জাহিদ হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অনুভূতি প্রকাশ ও জুলাই যুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেন লিডিং ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক মো. জেহাদুল ইসলাম মনি, জুলাই যোদ্ধা লিডিং ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সায়মন সাদিক জুনেদ, আবুল হাসান নাবিল, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আসিফুর রহমান দিপু এবং ইলেকট্রিকেল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সৈয়দা সালসাবিল আরিয়া এবং নাবিল আহমেদ জামিল। শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে অনুভূতি প্রকাশ ও স্মৃতিচারণ করেন শহীদ তারেকের বড় বোন তান্নী বেগম।
লিডিং ইউনিভার্সিটির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জামেউর রহমানের কুরআন তিলাওয়াত পরবর্তী জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে লিডিং ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অংশগ্রহণসহ জুলাই আন্দোলনের উপর একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে ক্যাম্পাস জাগরণ অনুষ্ঠানে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. বশির আহমেদ ভূঁইয়া, আধুনিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কামরুজ্জামান ভূঁইয়া, কলা ও আধুনিক ভাষা অনুষদের ডিন ড. মো. রেজাউল করিম, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মফিজুল ইসলাম, ট্রাস্টি বোর্ডের সচিব ইঞ্জিনিয়ার মো. লুৎফর রহমান, পরিচালক অর্থ ও হিসাব মোহাম্মদ কবির আহমেদ, ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা প্রফের ডা. মো. আব্দুল মজিদ মিয়া, বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক -শিক্ষাথী এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


