জুলাই শহিদ দিবসে লিডিং ইউনিভার্সিটিতে স্মরণ সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত

জুলাই আন্দোলনের মাধ‍্যমে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে
—দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলী
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অমর চেতনা ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা
— উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন
ঐতিহাসিক জুলাই শহিদ দিবসে জুলাই শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, শোক আর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সিলেটের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় লিডিং ইউনিভার্সিটিতে স্মরণ সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের গ‍্যালারী-১ এ আয়োজিত স্মরণ সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লিডিং ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলী। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টি বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ আব্দুল হাই।
জুলাই আন্দোলনের মাধ‍্যমে এদেশে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে উল্লেখ করে স্মরণ সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলী বলেন,
জুলাই বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় সন্ধিক্ষণ। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, প্রাণঘাতী শক্তির নির্মম প্রয়োগ এবং ভয়ভীতির রাজনীতির বিরুদ্ধে নিরস্ত্র অথচ অদম্য সাহসী বীর ছাত্র-জনতা যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, তা জাতির বিবেককে জাগ্রত করেছে। তিনি আরো বলেন, সবার সম্মিলিত আন্দোলনের মাধ‍্যমে যেভাবে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, একইভাবে সবার সম্মিলিত উদ‍্যোগে কাজ করলে দেশ ও জাতির উন্নয়ন সম্ভব হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ আব্দুল হাই বলেন, জুলাই এ সমগ্র জাতির ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ, আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের শক্তিতেই বাংলাদেশের মানুষ তাদের মর্যাদা, অধিকার এবং গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে নতুন করে প্রতিষ্ঠার সুযোগ লাভ করেছে।
জুলাই শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, শোক আর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সভাপতির বক্তব্যে লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন জুলাই অভ‍্যুত্থানে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শহিদ আবু সঈদসহ সকল শহিদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, জুলাইয়ের সেই গণঅভ্যুত্থান শুধু একটি আন্দোলনই ছিল না, এটি ছিল দীর্ঘ দেড় দশক ধরে জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ফ্যাসিবাদ, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, লুণ্ঠন, গুম, খুন, দমন-পীড়ন এবং ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে সমগ্র জাতির ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অমর চেতনা ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা হয়ে থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। জুলাই শহিদদের রক্ত কখনো বৃথা যাবেনা উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে জুলাই যোদ্ধাদের মধ‍্যে স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য প্রদান করেন লিডিং ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ‍্যাপক মো. জেহাদুল ইসলাম মনি, এবং শিক্ষার্থীদের ম‍ধ‍্যে মাহমুদ রেজা সৌরভ ও মো. মুহি উদ্দীন আহমেদ। তাদের বক্তব্যে তারা লিডিং ইউনিভার্সিটির জুলাই যোদ্ধাদের মধ‍্যে যারা আহত হয়েছেন এবং কারাবাস করেছেন তাদের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ দৃষ্টি, সহযোগিতা, এবং ঐ সময় যারা  বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন তাদেরকে স্বীকৃতি প্রদানের অনুরোধ জানান। রাষ্ট্র এবং সমাজে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে যারা শহিদ হয়েছেন, সেইসব অকুতোভয় শহিদদের গৌরবময় আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন লিডিং ইউনিভার্সিটির ব‍্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন  প্রফেসর ড. বশির আহমেদ ভূঁইয়া, কলা ও আধুনিক ভাষা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন লিডিং  ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার মো. মফিজুল ইসলাম। লিডিং ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক আলী ওমরের সঞ্চালনায় স্মরণ সবায় আরো বক্তব্য রাখেন লিডিং ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সচিব ইঞ্জিনিয়ার মো. লুৎফর রহমান, প্রক্টর ও অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির আহবায়ক মো. মাহবুবুর রহমান, পরিচালক অর্থ ও হিসাব মোহাম্মদ কবির আহমেদ এবং সকল বিভাগের বিভাগীয় প্রধানদের পক্ষে ব‍্যবসায় প্রশাসন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শাহানশাহ মোল্লা।
অনুষ্ঠানে জুলাই শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন এবং জুলাই আন্দোলনের একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে জুলাই শহিদদের রুহের মাগফিরাত কামনা, আহত জুলাই যোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য, জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন ইসলামি স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ‍্যাপক ড. ফজলে এলাহী মামুন। জাতীয়  সংগীতের মাধ‍্যমে শুরু হয়ে অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী জামিউর রহমান।

Scroll to Top